এক এনআইডিতে ৫ অটোরিকশার নিবন্ধন, আবেদন করবেন যেভাবে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
৩০-১০-২০২৬ ১২:১১:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩০-১০-২০২৬ ১২:১১:৪৪ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ দিয়েছে সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে এসব যানবাহনের নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচটি নিবন্ধন
নতুন বিধিমালায় একজন জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর নামে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব নিবন্ধন একই সিটি করপোরেশন থেকে নেয়া যাবে, আবার একাধিক সিটি করপোরেশন থেকেও নেয়া যাবে।
তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য কোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। অর্থাৎ, নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একাধিক সিটি করপোরেশন বেছে নেয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতিটি যানবাহনের বাণিজ্যিক চলাচল সংশ্লিষ্ট বিধিমালার শর্ত মেনে করতে হবে।
আবেদন করতে হবে যেভাবে
ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে আগ্রহী ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে।
আবেদনপত্রে আবেদনকারীর বাংলা ও ইংরেজি নাম, বাবা ও মায়ের নাম, জন্মতারিখ, বয়স, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
এ ছাড়া নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ই-রিকশার বিস্তারিত তথ্যও দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের ধরন, যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম, মডেল, চেসিস নম্বর ও মোটর নম্বর। গাড়ির মালিকের বিমা পলিসি থাকলে সেটির নম্বরও আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নিবন্ধন ফি জমা দেয়ার মূল রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদ সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি আবেদনকারীকে ঘোষণা দিতে হবে যে, আবেদনে দেয়া সব তথ্য ও দাখিল করা কাগজপত্র সঠিক। পরবর্তী সময়ে কোনো তথ্য বা দলিল মিথ্যা প্রমাণিত হলে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
কাগজপত্র যাচাই ও নিবন্ধনের শর্ত
আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করবে। একই সঙ্গে ই-রিকশাটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবিষয়ক শর্ত পূরণ করেছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তার শর্ত পূরণ না হলে নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বুয়েট নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ফিটনেস সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর থাকতে হবে।
সব শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেয়া হবে।
নিবন্ধিত ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। নিবন্ধন গ্রহণের পাশাপাশি যানবাহনকে নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তার শর্তও পূরণ করতে হবে।
নিবন্ধন বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না বলে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদন বাতিল হলে আপিলের সুযোগ
নিবন্ধনের জন্য জমা দেয়া আবেদন যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হলে তা নামঞ্জুর করতে পারবে। তবে আবেদন বাতিলের কারণ সাত কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তিতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স